মুক্তধারা

ভয় পেয়ে পেয়ে হৃদয় শুকিয়ে যাচ্ছে

হ্যাঁ তুমি বলতেই পারো, রাতে না খাওয়া সেই মেয়েটি যে ফিগার বাঁচাতে চায় শুকিয়ে যাওয়া কি তাই? নাকি পুরানো উপন্যাসের সেই রাক্ষসী, প্রাণচঞ্চল স্রোতস্বিনী দেখতে দেখতে যার যৌবন লীন!! এখন আর মুচকি হাসি হাসে না ঠোঁট। জানি বোঝানো যায় না, বোঝে না বা বুঝি না আমরা কেউ। থাক পাশে সরিয়ে রাখি আমার শুকনো হৃদয়।

আচ্ছা যে জীবন বারবার মরে গিয়ে ধুক করে জ্বলে উঠে গ্যাসের চুলার মত, বেঁচে থাকা খুব কি ফারাক পড়ে তার?

জীবন, হৃদয়, প্রেম এক বাক্স করে সুন্দর মোড়কে বাজারি করে দিচ্ছে সব। খুব সহজেই মিলে, এক গেলে এক আসে! সময়ের চশমায় যখন যেটা ভাল লাগে!!

এবার মাথা চুলকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করি, এসব ফর্মুলা ভাল রাখছে কি আমাদের?

অন্যের প্রেম দেখে যে সুখ পাখি মনের ভিতর লাফায় নিজের বেলায় সে ভিনদেশী তারা। মেলে না আজ কিচ্ছু মেলে না।

ক্রেশ খেয়ে নাকানিচুবানি অবস্থা। তারপর প্রেম। যে প্রেমিক দেখতে ভাল, হাসলে গালে টোল পড়ে, সন্দর ফিগার বা সুন্দর শরীর, লম্বা গড়ন। কিছুদিন সব ঠিকঠাক। তারপর হঠাত করে বেকার প্রেমিকের সাধারণ বন্ধুটার চাকুরী হয়ে যায়। আর মনের হাওয়া বদলে যায়। হ্যালো, শুনতে পারছো? শোন, আমার মনে হয় আমাদের সম্পর্কটা আর না এগোনোই ভাল। বাসায় রাজী না। বিয়ের নানা প্রস্তাব আসছে।

পুরুষের হিসেব নিকেশ খুব সহজ, শরীর চাই আর চাই নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা। আর আমরা ডলে ঘষে শরীর সাজাচ্ছি আর হিন্দি সিনেমা দেখে বোকা হওয়ার ট্রেনিং নিচ্ছি।

সত্যি বলছি, অসুস্থ এক নেশায় অস্থির হয়ে সব ঘুরে বেড়াচ্ছি আমরা। কেউ ভাল নেই। কেউ না। শরীর মন বিক্রি করে দিয়ে সব একলা।

লেখিকাঃ রোকেয়া হক কনা